| বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরকে বিভাগ করার প্রতিশ্রুতি দিলেন তারেক রহমান | ১২ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 04-02-2026 ইং
  • 1301836 বার পঠিত
ফরিদপুরকে বিভাগ করার প্রতিশ্রুতি দিলেন তারেক রহমান | ১২ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান
ছবির ক্যাপশন: তারেক রহমান

ফরিদপুর বিভাগ ও পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি তারেক রহমানের: ১২ ফেব্রুয়ারি ‘ধানের শীষে’ ভোট চাইলেন বিএনপি প্রধান

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উত্তাল পদ্মাপাড়ের জনপদ ফরিদপুর। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বিকালে ফরিদপুরের ঐতিহাসিক সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ফরিদপুরবাসীর দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি ‘ফরিদপুর বিভাগ’ বাস্তবায়নের চূড়ান্ত প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি বলেন, “আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ধানের শীষ জয়ী হলে আমরা প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের লক্ষ্যে ফরিদপুরকে পূর্ণাঙ্গ বিভাগে রূপান্তর করব।”

নদী শাসন ও পদ্মা ব্যারেজ পরিকল্পনা

ফরিদপুরের প্রধান ভৌগোলিক সমস্যা নদী ভাঙন নিয়ে দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের আশ্বাস দেন তারেক রহমান। তিনি উল্লেখ করেন, কেবল ত্রাণ দিয়ে নদী ভাঙন ঠেকানো সম্ভব নয়, এর জন্য প্রয়োজন স্থায়ী বাঁধ ও বৈজ্ঞানিক পরিকল্পনা। এ সময় তিনি উত্তরাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলের পানি সংকট সমাধানে ‘পদ্মা ব্যারেজ’ নির্মাণের মহাপরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “পদ্মা ব্যারেজ কেবল একটি কাঠামো নয়, এটি হবে বাংলাদেশের কৃষি বিপ্লবের চাবিকাঠি।”

কৃষি ও কর্মসংস্থান: ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচি

কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নে বিএনপির প্রস্তাবিত ‘কৃষক কার্ড’ ব্যবস্থার কথা পুনরুল্লেখ করেন তারেক রহমান। তিনি জানান, এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা সরাসরি সার, বীজ ও ঋণের সুবিধা পাবেন, যেখানে কোনো মধ্যস্বত্বভোগীর জায়গা থাকবে না। একই সাথে তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে শিল্পায়নের মাধ্যমে বিনিয়োগ বাড়ানোর অঙ্গীকার করেন তিনি।

জামায়াতকে ইঙ্গিত করে কঠোর সমালোচনা

জনসভায় জামায়াতে ইসলামীকে (সরাসরি নাম না নিয়ে) ‘গুপ্ত দল’ হিসেবে ইঙ্গিত করে তারেক রহমান বলেন, “জনগণের ভোটের অধিকারের বিরুদ্ধে একটি গোষ্ঠী নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। জনগণ তাদের চিনে ফেলেছে। সময়ভেদে এরা একেক সময় একেক রূপ ধারণ করে। এদের জনগণের ওপর কোনো আস্থা নেই।” সম্প্রতি জামায়াত আমিরের একটি বক্তব্যের প্রেক্ষাপটে তিনি বলেন, “গুপ্তদলের প্রধান নারীদের নিয়ে অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ ও নোংরা কথা বলেছেন। যারা দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারীর প্রতি সম্মান রাখতে পারে না, তাদের হাতে দেশ নিরাপদ নয়। ১৯৭১ সালেও মানুষ তাদের ভূমিকা দেখেছে।”

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ১৯০০ থেকে ২০২৬

ফরিদপুর ও বাংলাদেশের রাজনীতির দীর্ঘ বিবর্তন এই জনসভার মাধ্যমে নতুন মাত্রা পেয়েছে।

  • ১৯০৫-১৯৪৭: অবিভক্ত বাংলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জেলা ছিল ফরিদপুর। ১৯০৫-এর বঙ্গভঙ্গ থেকে শুরু করে ১৯৪৭-এর দেশভাগ পর্যন্ত এই অঞ্চলের মানুষ ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে।

  • ১৯৭১ ও স্বাধীনতার চেতনা: ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে ফরিদপুর ছিল রণাঙ্গনের অন্যতম সেক্টর। স্বাধীনতার পর থেকে এখানে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব দীর্ঘস্থায়ী হয়েছে।

  • ২০২৪-২০২৬: ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে দীর্ঘ ১৫ বছরের আওয়ামী শাসনের অবসানের পর ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে দেখা হচ্ছে একটি ‘বাস্তব গণতন্ত্রের পুনর্জন্ম’ হিসেবে। তারেক রহমানের আজকের জনসভা এই জনপদে বিএনপির রাজনৈতিক ভিত্তি আরও মজবুত করল।

উপসংহার

বক্তৃতার শেষে তারেক রহমান ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নির্ভয়ে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি সতর্ক করে বলেন, “আর কোনো নিশিরাতের নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না। এবারের লড়াই জনগণের রায় প্রতিষ্ঠার লড়াই।”


সূত্র: যুগান্তর, বাংলাদেশ প্রতিদিন তথ্যভাণ্ডার, বিএনপি মিডিয়া সেল, সময় টিভি এবং ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর মাঠ পর্যায়ের নির্বাচনি সংবাদ।

বিশ্লেষণ: তারেক রহমানের ফরিদপুর সফর এবং বিভাগ করার প্রতিশ্রুতি এই অঞ্চলের ভোটারদের মাঝে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে জামায়াতের সাথে বিএনপির সম্পর্কের টানাপোড়েন এখন প্রকাশ্যে আসায় নির্বাচনী হিসাব-নিকাশ অনেকটাই জটিল হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency